আজ ১৪ রমজান। চলছে মাগফিরাতের দশক। রমজান মাস হলো দয়া, সহমর্মিতা এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের মাস। বিশেষ করে রোজাদারদের ইফতার করানো বা খাবার দেওয়া আল্লাহর কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় কাজ। রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন: “যে ব্যক্তি রোজাদারকে ইফতার করায়, তার জন্যও রোজা রাখার সমপরিমাণ সওয়াব লেখা হয়, আর রোজাদারের সওয়াব কমে যায় না (তিরমিজি)।”
এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, রোজাদারের ইফতার করানো একটি মহান আমল যা বিশাল সওয়াবের সম্ভার নিয়ে আসে।
প্রথমত, রোজাদারকে খাবার দেওয়া মানুষের জন্য সরাসরি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যম। এটি একটি সদকা ও নেক কর্ম হিসেবে গণ্য হয়।
দ্বিতীয়ত, এটি সামাজিক বন্ধন ও সহমর্মিতা বৃদ্ধির একটি শক্তিশালী মাধ্যম। রমজান মাসে দরিদ্র, অসহায় ও প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের অন্যতম শিক্ষা। ইফতার করানো বা খাবার বিতরণ করার মাধ্যমে সমাজে ভালোবাসা, সহযোগিতা ও একতা বৃদ্ধি পায়। যে ব্যক্তি দারিদ্র ও অসহায়দের সাহায্য করে, আল্লাহ তার কল্যাণ বৃদ্ধি করেন।
তৃতীয়ত, ইফতার করানো আত্মশুদ্ধি ও ধন্যবাদ জ্ঞানের শিক্ষা দেয়। একজন মানুষ যখন রোজাদারের ক্ষুধা দূর করতে সাহায্য করে, তখন সে নিজেও আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ হয় এবং সে দয়া প্রদর্শনের সওয়াব পায়। এটি রমজানের মূল উদ্দেশ্য-আত্মসংযম, দয়া ও নৈতিক উন্নয়ন-সম্পন্ন করতে সহায়ক। চতুর্থত, এই আমল আধ্যাত্মিক ও আখিরাতের কল্যাণ বহন করে।
রোজাদারের ইফতার করানো হলো দয়া, সহমর্মিতা ও নেক আমলের সেরা প্রকাশ। এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের, সমাজে ভালোবাসা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির, আত্মশুদ্ধি ও আধ্যাত্মিক উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। রমজান মাসে এই সহজ কিন্তু মহান কাজের মাধ্যমে একজন মুসলিম নিজের ও অন্যের জীবনে বরকত এবং সওয়াব বৃদ্ধি করতে পারে।
খুলনা গেজেট/এনএম

